Site icon

কুরবানি করার দোয়া

কুরবানি করার দোয়া ও নিয়ম

কুরবানি করার দোয়া ও নিয়ম

কুরবানি করার দোয়া

কুরবানি করার দোয়া
কুরবানির দোয়া

কুরবানি একটি গুরুত্ব তাকওয়া পূর্ণ ইবাদত। এটি আল্লাহ তাআলার নামে পশু জবেহ করার মাধ্যমে আদায় করা হয়। অনেকেই কুরবানির পশু জবেহ করার নিয়ম পদ্বতি ও দোওয়া সম্পর্কে জানে না। হাদিসে এ সম্পর্কে রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।

কোরবানি স্বাভাবিক কোনো আমল নয়; বরং এর সঙ্গে মিশে আছে তাৎপর্য। পশু জবাই করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অফুরন্ত সুযোগ। আজকে আমরা জানবো, কোরবানির পশু জবাই করার দোয়া সম্পর্কে –

অনেকেই মনে করেন যে কুরবানি একটি কঠিন কাজ। যদি কুরবানির নিয়ম কানন জানেন তাহলে কুরবানি দেওয়া আপনার কাছে মোটেও কঠিন মনে হবে না।

কুরবানি পশু জবেহ করার জন্য রয়েছে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা। পশু জবেহ করার সময় দোয়া পড়তে হয়। পশু জবেহ করার পরও রয়েছে দোয়া।

কুরবানির দোয়া
পশু জবাই করার আগে:

اللَّهُمَّ بِسْمِكَ وَاللَّهُمَّ لَكَ

উচ্চারণ,

আল্লাহুম্মা বিসমিকা ওয়া আল্লাহুম্মা লাকা,

অর্থ:

হে আল্লাহ! আপনার নামে এবং আপনার জন্য।

পশু জবাই করার সময়:

بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণ,

বিসমিল্লাহি ওয়ালহু আকবর,

অর্থ:

আল্লাহর নামে এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

পশু জবাই করার পর:

اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنِّي هَذَا الْقُرْبَانَ

উচ্চারণ,

আল্লাহুম্মা তাক্কবাল মিন্নি হাজালকুরবান,

অর্থ:

হে আল্লাহ! আমার এই কুরবানি গ্রহণ করুন।

اَللَّهُمَّ إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ عَلَى مِلَّةِ اِبْرَاهِيْمَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ – إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ – لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ – بِسْمِ اللهِ اَللهُ اِكِبَر – اَللَّهُمَّ مِنْكَ وَ لَكَ

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইন্নি ওয়াঝ্ঝাহতু ওয়াঝহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা। আলা মিল্লাতি ইবরহিমা হানিফাও ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকিন। ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। লা শারিকা লাহু ওয়া বি-জালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমিন। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা মিনকা ও লাকা।

অর্থ:হে আল্লাহ, নিশ্চয় আমি সেই মহান রবের অভিমুখি হলাম, যিনি আসমান এবং জমিন সৃস্টি করেছেন । আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নেই। নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ—সবই বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তার কোনো শরিক নেই। আমি এ কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আর আমি আত্মসমর্পণকারীদের একজন। হে আল্লাহ, তোমার পক্ষ থেকে, তোমার জন্য। আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। (আবু দাউদ: ২৭৯৫)

যদি কেউ এ দোয়াটি না পারেন তবে ছোট্ট এ অংশটুকু পড়বেন-

بِسْمِ اللهِ اَللهُ اِكِبَر – اَللَّهُمَّ مِنْكَ وَ لَكَ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর -আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা ।
নিজের পশু নিজে জবাহ করার পর এ দোয়া পড়া-

اَللهُمَّ تَقَبَّلْ لَهُ مِنِّى كَمَا تَقَبَّلْتَ مِنْ حَبِيْبِكَ مَحَمّدٍ وَّ خَلِيْلِكِ اِبْرَاهِيْم

লক্ষ্যণীয় হলো-

যদি কেউ একাকি কুরবানি দেয় এবং নিজে জবাই করে তবে বলবে মিন্নি; আর অন্যের কুরবানির পশু জবাই করার সময় ‘মিনকা-মিনকুম’ বলে যারা কুরবানি আদায় করছে তাদের নাম বলা।

কুরবানির পশু জবেহ করার জন্য শোয়ানোর পর দোয়া পড়া। এ দোয়াটি বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যদিও অনেকে দোয়াটির সনদের ব্যাপারে মতপার্থক্য করেছেন। তবে এ দোয়াগুলো পড়ে কুরবানি করা উত্তম। তবে কেউ শুধু বিসমিল্লাহ বলে নালীগুলো কেটে দিলেই কুরবানি শুদ্ধ হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য:

উপরে উল্লেখিত দোয়াগুলো হাদিস থেকে উদ্ধৃত।
আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী অন্যান্য দোয়াও পড়তে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তরিকতার সাথে দোয়া পড়া।

কোরবানির ফজিলত

কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে হাদিস

কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে হাদিস:
কুরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, তাঁর নিকট থেকে পুরস্কার লাভ এবং আখেরাতের জন্য প্রস্তুতির একটি মাধ্যম। হাদিসে কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে অনেক সুন্দর বর্ণনা এসেছে।

কিছু উল্লেখযোগ্য হাদিস:

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “কুরবানীর দিন মানুষ যে কাজ করে তার মধ্যে আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় হচ্ছে রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানী করা)। কিয়ামতের দিন তা নিজের শিং, পশম ও ক্ষুরসহ হাযির হবে। তার (কুরবানীর পশুর) রক্ত যমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ্ তা’আলার নিকটে এক বিশেষ মর্যাদায় পৌছে যায়। অতএব তোমরা আনন্দিত মনে কুরবানী কর।” (সহীহ বুখারী)

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “প্রতিটি কুরবানীর পশুর জন্য প্রতিটি লোমের বিনিময়ে সাওয়াব আছে।” (সহীহ তিরমিযী)

জায়েদ ইবনে আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

আমরা রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! কোরবানি কী? রাসূল (সাঃ) বললেন: “এটি তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আঃ)-এর সুন্নত।” অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! এতে আমাদের জন্য কী প্রতিদান আছে? জবাবে তিনি বললেন, “প্রতিটি চুলের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হবে।” (সহীহ ইবনে মাজাহ)

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত:

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “কোরবানীর গোস্ত এক তৃতীয়াংশ দরিদ্রদের জন্য, এক তৃতীয়াংশ বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ নিজেদের জন্য।” (সুনান আবু দাউদ)

উল্লেখ্য:

এছাড়াও আরও অনেক হাদিসে কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে।
হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট যে, কোরবানি একটি অত্যন্ত ফজিলাতপূর্ণ ইবাদত।
আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আমাদেরকে নিয়মিত কুরবানি করার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
আমাদের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী কুরবানি করে আল্লাহর নিকট থেকে পুরস্কার লাভের চেষ্টা করা।

কুরবানির মাসআলা

কুরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি পালনের কিছু নিয়ম-কানুন আছে, যাকে মাসআলা বলা হয়। নিচে কুরবানির কিছু জরুরি মাসআলা দেওয়া হলো:
কারা কুরবানি করতে বাধ্য:
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক মুসলিম নর-নারী,
যারা ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে।
টাকা-পয়সা, অলঙ্কার, বসবাস , সোনা-রূপা, ও খোরাকির প্রয়োজন আসে না এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য।
সাধারণত সোনার ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা-পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নিসাব হল- এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া।
সোনা বা রূপা কিংবা টাকা-পয়সা এগুলোর কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানি করা ওয়াজিব।


কখন কুরবানি করতে হয়:
কুরবানি ১০ যিলহজ্ব ফজরের পর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোন সময় করা যায়।
ঈদের নামাজের আগে কুরবানি করা জায়েজ নয়। তবে জরুরী কারণে যদি ঈদের নামাজের আগে কুরবানি করা হয়, তাহলে পুনরায় কুরবানি করতে হবে।
কোন পশু দ্বারা কুরবানি করা যায়:
উট, গরু, ভেড়া ,মহিষ, ছাগল,, ও দুম্বা দ্বারা কুরবানি করা জায়েয।
একটি উটে সাতজন, একটি গরু বা মহিষে সাতজন এবং একটি ছাগল বা ভেড়া বা দুম্বায় একজন মিলে কুরবানি করতে পারবে।


অন্যান্য মাসআলা:
নিজের হাতে কুরবানির পশু জবাই করা (মুস্তাহাব) যদি না পারে তবে অন্যের দ্বারা জবাই করানো যাবে।
কুরবানির সময় মুখে নিয়ত করা ও দোয়া উচ্চারণ জরুরি নয়, মনে চিন্তা করে নিয়ত করে শুধু বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবাই করলেই চলে।
কুরবানির পশুর মাংস নিজে রেখে খাওয়া যায়, আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা যায়।
কুরবানির পশুরের চামড়া, খাল ও অন্যান্য অংশ বিক্রি করে বা দান করে দেওয়া যায়।

আরো জানুনঃ এশার নামাজ

Exit mobile version