আফগানি পামির কোলা

পামির কোলা

পামির কোলা

আফগানিস্তানে তৈরি একটি জনপ্রিয় কার্বোনেটেড পানীয় হল পামির কোলা। এটি আফগানিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলির মধ্যে একটি এবং বিশ্বের অনেক দেশে পাওয়া যায়।

পামির কোলা বিভিন্ন স্বাদে পাওয়া যায়, তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল মূল স্বাদ। এটি বেদানা, আপেল এবং অন্যান্য ফলের রস দিয়ে তৈরি। পামির কোলাকে প্রায়শই কোকাকোলা এবং পেপসির একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসাবে বিজ্ঞাপন করা হয় কারণ এতে কম চিনি এবং ক্যালোরি থাকে।

পামির কোলা
পামির কোলা আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি দেশের অন্যতম বৃহত্তম শিল্প এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পামির কোলা আফগানিস্তানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যও এবং এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

পামির কোলা কেবল একটি পানীয় নয়, এটি আফগান সংস্কৃতির একটি প্রতীক। এটি প্রায়শই বিশেষ অনুষ্ঠান এবং উদযাপনে পরিবেশন করা হয় এবং এটি আফগান অতিথিপরায়ণতার প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়।

আপনি যদি কখনও আফগানিস্তানে যান তবে অবশ্যই পামির কোলা চেষ্টা করুন। এটি একটি সুস্বাদু এবং menyegarkan পানীয় যা আপনাকে দেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের স্বাদ দেবে।

আফগানিস্তানের পামির কোলা

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের বর্বরতম আক্রমণ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরাইলি পণ্য বয়কটের ডাক দেয়া হয়েছে। বহু দেশে মুসলিমদের সাথে অমুসলিমরাও ইসরাইলি পণ্য কিনতে চাইছেন না। বয়কটের তালিকায় থাকা পানীয়গুলোর শূন্যস্থান পূরণ করতে নেমে পড়েছে পামির কোলা। বয়কটের বাজারে সাহস করে ঢুকে পড়েছে আফাগানিস্তানের এই কোমল পানীয় ব্র্যান্ড।

আফগানিস্তানের হেরাতের এই ছোট কোম্পানি হঠাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে মধ্যমণি হয়ে যাচ্ছে। এমন কি দৈত্যাকারের বিশাল কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে প্রথম পর্বেই শুধু সফল নয়, অসাধারণ সফলতা অর্জন করেছে। পামির কোলার চাহিদা তুঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ও আরব দেশগুলোতে, পামির কোলার চাহিদা সর্বত্রই হতে চলছে । বেদানার জুস দিয়ে তৈরি এবং কেমিক্যাল বর্জিত করা এই পানীয়র চাহিদা দ্রুত বেড়ে চলেছে বিভিন্ন দেশ গুলোতে। যদিও এই কোম্পানি ইতোপূর্বে ৪০টি ব্র্যান্ডের জুস তৈরি করেছে কিন্তু রমজানে পামির কোলার চাহিদা সবচেয়ে বেশি আছে।

আফগানিস্তানেই ইতোমধ্যে ৩৪টি এর বেশি শাখা তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে চাহিদা সামাল দেয়ার জন্য। পূর্বে আফগানিস্তানের বাজারে বিস্কুট কেক, নিমকিন এবং বেদানা, লেবু ও আমের জুস চলছিল । কিন্তু এই বয়কটের সুযোগে আফগানিস্তানে, হেরাত প্রদেশে, ডালিম বা বেদানার ফলন বেশি করা হচ্ছে। অন্যান্য জেলাতেও বেদানার চাষ ছিল, কিন্তু ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু এবার বিদেশ থেকে ক্রমাগত অর্ডার আসতে থাকায় আশায় বুক বাঁধছেন ফলের চাষিরা। পামির কোলার মালিক মুনাওয়ার শাহ’কে সঙ্গ দিতে তৈরি হচ্ছেন অন্যান্য ধনী শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা। সকলের লক্ষ্য বাজার বিস্তার করা।

পামির কোলার শাফা

পামির কোলার শাফা

ইতি পূর্বে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কের কোম্পানি প্রতিযোগিতায় নেমেছিল, তবে সুবিধা করতে পারেনি। তবে পামির কোলা নিয়ে নতুন উন্মাদনা দেখে অনেকে মনে করছেন আফগানিস্তান হারিয়েছে আমেরিকা ও ন্যাটোবাহিনীকে। তাই আফগান কোম্পানিও বাজারে টিকে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এদিকে চীনে একটি বড় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ডালিম পাঠান আফগানিস্তানের কয়েকজন কৃষক। ওই প্রদর্শনীতে আফগানিস্তানের ডালিম ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এতে উল্লসিত আফগানিস্তানের কৃষকরা। তাদের মধ্যে একজন কৃষক সাইদ মোহাম্মদ।

আফগানিস্তানের কৃষক সাইদ মোহাম্মদ বলেন, আমি ১০ একর জমির ডালিম সংগ্রহ করেছি (এ বছর থেকে)। চীনে ডালিম পাঠানো খুবই ভালো। কারণ আমাদের ডালিম চীনে রপ্তানি করলে শুধু (আফগান) কৃষকই নয়, সমগ্র দেশ এবং জনগণ উপকৃত হবে।

চীনে আফগানিস্তানের ডালিম পৌঁছানো এবং ডালিম রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ফয়েজ বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে প্রদর্শনীতে ২০০ কেজি ডালিম পাঠিয়েছিলাম। সেগুলো প্রথমে কান্দাহার থেকে স্থলপথে কাবুলে পৌঁছেছিল। সেখান থেকে বিমানে দুবাই এবং পরে চীনের সাংহাইয়ে পৌঁছেছিল।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানে আফিম তথা পপি চাষের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে এখন সেটি শেষ হচ্ছে। ২০২২ সালে এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর কৃষকরা ডালিম, গম এবং অন্যান্য ফসল চাষ করছেন। এই ডালিম উৎপাদন যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে বোলে ধারণা করা যায়।

এবং আশা করা যায়, যে এই পামির কোলা আমাদের বাংলাদেশে খুব শীঘ্রই আসবে ।

পামির কোলা সম্পর্কে কিছু তথ্য:

উৎপাদক: পামির কোলা কোম্পানি, আফগানিস্তান।
বাজার: আফগানিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ এবং এশিয়ার কিছু দেশে পাওয়া যায়।
পুরষ্কার: 2018 সালে আন্তর্জাতিক পানীয় পুরষ্কারে “সেরা নতুন ডালিম পানীয়” পুরষ্কার জিতেছে।
আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে পামির কোলার অবদান:

পামির কোলা আফগানিস্তানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য।
এটি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
এটি হাজার হাজার আফগানের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

 আরো জানুনঃ মূল্যস্ফীতি কেন হয়বিশুদ্ধ পানির বৈশিষ্ট্য কি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *