মাগরিবের নামাজের পর কোন সূরা পড়তে হয় এবং একাকী নামাজে কেরাত পড়ার নিয়ম

মাগরিবের নামাজের পর কোন সূরা পড়তে হয়

মাগরিবের নামাজের পর কোন সূরা পড়তে হয়

মাগরিবের নামাজের পর সুরা ওয়াকিয়া পড়া। এটি কোরআনুল কারিমের ৫৬ নম্বর সূরা। এই সুরাটিতে কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং পরকালের পুরস্কার ও শাস্তির কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) মাগরিবের নামাজের পর সূরা ওয়াকিয়া পড়তেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

হাদিস

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে, যে আলোকিত হবে তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত।”

(সহিহুল বুখারি, হাদিস নং: ৫০৩৪)

সুতরাং, মাগরিবের নামাজের পর সূরা ওয়াকিয়া পড়া মুস্তাহাব। এটি আমাদের কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করবে এবং পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে।

একাকী নামাজে কেরাত পড়ার নিয়ম

একাকী নামাজে কেরাত পড়ার নিয়ম নিম্নরূপ:

ফরজ নামাজে:
সূর্যোদয়ের পরের নামাজ (জোহর, আসর) একাকী পড়লে নিরবে কেরাত পড়া।
সূর্যাস্তের পরের নামাজ (মাগরিব ,ফজরের,নামাজ) একাকী পড়লে উচ্চস্বরে কেরাত পড়া।
রাতের নামাজ (ইশার নামাজ) একাকী পড়লে উচ্চস্বরে বা নিরবে কেরাত পড়া যায়। তবে উচ্চস্বরে পড়া উত্তম।

নফল নামাজে:
দিনের নফল নামাজ নিরবে পড়া ওয়াজিব।
রাতের নফল নামাজ উচ্চস্বরে বা নিরবে পড়া যায়। তবে উচ্চস্বরে পড়া উত্তম।

কেরাত পড়ার নিয়ম:
কায়দা অনুযায়ী কেরাত পড়া।
উচ্চারণ সঠিকভাবে করা।
তাজবীদ মেনে পড়া।
অর্থ বুঝে পড়া। অর্থ না বুঝলেও কোন অসুবিধা নেয়। তবে অর্থ বুঝে পড়া উত্তম।

কেরাত পড়ার সময় ভুল হলে:
যদি ভুলের কারণে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে নামাজ হবে না । তবে হ্যাঁ হাল্কা ভুল হলে কোনো অসুবিধা নেয়। যদি ভুলের কারণে অর্থ পরিবর্তন না হয়, তাহলে সাহু সেজদা দিতে হবে না।

কেরাত পড়ার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:

কেরাত পড়ার সময় অন্যের দিকে তাকানো যাবে না।
কেরাত পড়ার সময় অন্যের সাথে কথা বলা যাবে না।
কেরাত পড়ার সময় অন্যের কাজের প্রতি মনোযোগ দেওয়া যাবে না।
একাকী নামাজে কেরাত পড়ার মাধ্যমে আমরা কোরআনুল কারিমের শিক্ষাগুলো বুঝতে পারব এবং আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর আমল

মাগরিবের নামাজের পর আমল
ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর আমল
ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর দোয়া

ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে। এই আমলগুলো করলে আল্লাহ তা’আলার রহমত ও বরকত লাভ হয়।

ফজর নামাজের পর আমল

  • ৩৩, বার সুবহানাল্লাহ ৩৩, আল্লহামদু লিল্লাহ ৩৪, বার আল্লাহু আকবার পাঠ করা।
  • ১০ বার “সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি” পাঠ করা।
    এই দোয়াটি পাঠ করলে দশটি গুনাহ মাফ হয় এবং আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য লাভ হয়।
  • ১০ বার “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ করা।
    এই দোয়াটি পাঠ করলে আল্লাহ তা’আলার ক্ষমা লাভ হয়।
  • “সালাতুল্লাহি আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিওঁ” ১০ বার পাঠ করা।
    এই দোয়াটি পাঠ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফা’আত লাভ হয়।
  • ১০ বার “সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি” পাঠ করা।
    এই দোয়াটি পাঠ করলে দশটি গুনাহ মাফ হয় এবং আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য লাভ হয়।
  • ১০ বার “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ করা।
    এই দোয়াটি পাঠ করলে আল্লাহ তা’আলার ক্ষমা লাভ হয়।
  • “রাদ্বীতু বিল্লাহি রাব্বা ওয়া বিল ইসলামি দ্বীনা ওয়া বি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা” ৩ বার পাঠ করা।
    এই দোয়াটি পাঠ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

এছাড়াও, ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর কুরআন তিলাওয়াত করা, আল্লাহ তা’আলার কাছে দোয়া করা, ইস্তেগফার করা, দরুদ পাঠ করা ইত্যাদিও গুরুত্বপূর্ণ আমল।

আরো পড়ুনঃ আসরের নামাজের সময় শুরু 

আসরের নামাজ মোট কত রাকাত

মাগরিবের নামাজ কয় রাকাত ও কি কি

মাগরিবের তিন রাকাত ফরজ নামাজের নিয়ত

আমি নিয়ত করছি, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আজকের মাগরিবের তিন রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করার।

বাংলায়:

নাওয়াইতুয়ান উসল্লিয়া লিল্লাহি তা’ আলা সালাছা রকায়াতিন ছলাতিল মাগরিবি ফারদুল্লাহি তায়ালা মোতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা বাতি শারিফাতি আল্লাহু আকবর।
আরবিতে:

ﻧﻮﺍﻳﺖ ﺃﻥ ﺍُﺻﻠﻲ ﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺛﻼﺙ ﺭﻛﻌﺎﺕ ﺻﻼﺓ ﺍﻟﻤﻐﺮﺏ ﻓﺎﺭﺽ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻣﻮﺗﻮﺟﻬﺎً ﺇﻟﻰ ﺟﻬﺎﺗﻴ ﺍﻟﻜﻌﺒﺔ ﺍﻟﺸﺮﻳﻔﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ

নিয়তের গুরুত্ব

নামাজের নিয়ত হল নামাজের মূল ভিত্তি। নামাজের নিয়ত ছাড়া নামাজ হয় না। তাই নামাজের নিয়ত সঠিকভাবে করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নামাজের নিয়ত করার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে:

নিয়ত মনে মনে বা জোরে উচ্চারণ করে করা যায়।
নিয়তে নামাজের নাম, রাকাত সংখ্যা এবং ফরজ বা সুন্নত উল্লেখ করতে হবে।
নিয়ত করতে হবে যে, নামাজ শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আদায় করা হচ্ছে।
নামাজের নিয়ত সঠিকভাবে করার মাধ্যমে আমরা নামাজের সঠিক উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারব এবং আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার আশা রাখতে পারব।

আর নিয়তের দোওয়া পাঠ না করলেও নামাজ হবে। আমি নিয়ত করছি, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আজকের মাগরিবের তিন রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করার। এটা বললেই হয়ে যাবে। কিন্তু নিয়ত ছাড়া নামাজ হবে না।

আরো পড়ুনঃ যোহরের নামায কত রাকাত ৪ রাকাত নফল নামাজ পড়ার নিয়ম

এশার নামাজ কয় রাকাত সুন্নত কয় রাকাত ফরজ

মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত
মাগরিবের নামাজের সময় কতক্ষণ থাকে

মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হয় সূর্যাস্তের সাথে সাথে এবং শেষ হয় শাফাক অদৃশ্য হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। শাফাক হল সূর্যাস্তের পর আকাশে দেখা যাওয়া লালচে আভা। শাফাক অদৃশ্য হওয়ার পর ইশার নামাজের সময় শুরু হয়।

মাগরিবের নামাজের সময় কতক্ষণ থাকে এ বিষয়ে ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে বেশিরভাগ স্কলারের মতে, মাগরিবের নামাজের সময় প্রায় এক ঘণ্টা থাকে।

বাংলাদেশের ঢাকা শহরের জন্য মাগরিবের নামাজের সময় প্রায় সন্ধ্যা ৭:০০ মিনিট থেকে রাত ৮:০০ মিনিট পর্যন্ত। তবে এটি নির্ভর করে বছরের সময় এবং আবহাওয়ার উপর।

মাগরিবের নামাজের সময় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নামাজ আদায় করা উত্তম।

মাগরিবের নামাজের পর নফল নামাজ

মাগরিবের নামাজের পরে ছয় রাকাত আওয়াবিন এর নামাজ পড়ার সম্পর্কে হাদিস রয়েছে। কিন্তু এই হাদিস গুলো অত্যন্ত দুর্বল। রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবায়ে কেরামগণ মাগরিবের পরে এশার আগে নফল নামাজ পড়তেন। এই নামাজের অত্যন্ত ফজিলত রয়েছে।

আরো জানুনঃ ফজরের জামাত শুরু হওয়ার পর সুন্নত পড়া যাবে কি?  সূর্য ওঠার কত মিনিট পর নামাজ পড়া যায়?

এশার বেতের নামাজের নিয়ত