মুদ্রাস্ফীতি কিভাবে হয় এবং মুদ্রাস্ফীতি হলে কি হয়?

মুদ্রাস্ফীতি কি

মুদ্রাস্ফীতি কি

অর্থনীতিতে মুদ্রার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া কে মুদ্রাস্ফীতি বলে । আবার মুদ্রাস্ফীতি বলতে বোঝায় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়াকে। যা সাধারণত ঘটে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে। কোন কালপরিধিতে পণ্য ও সেবার মূল্য টাকার অঙ্কে বেড়ে গেলে অর্থনীতির ভাষায় তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। ব্যাপারটা হচ্ছে অর্থনীতিতে যখন মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যায় কিন্তু পণ্য বা সেবার পরিমাণ একই থাকে তখনই মুদ্রাস্ফীতি হয়। অর্থাৎ বেশি টাকা দিয়ে কম পণ্য বা সেবা কিনতে হয়।

মুদ্রাস্ফীতি কাকে বলে

মুদ্রাস্ফীতি বলা হয় কোন কালপরিধিতে পণ্য ও সেবার মূল্য টাকার অঙ্কে বেড়ে গেলে অর্থনীতির ভাষায় তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে । মুদ্রাস্ফীতির ফলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যায় অথবা আমরা এক কথায় বলতে পারি অধিক মুদ্রার প্রচলনকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।

যেমন, গত বছর ১ কেজি আটা কিনতে আপনার খরচ হতো ২৫ টাকা। কিন্তু চলতি বছর সেই একই আটার পরিমাণ কিনতে আপনার খরচ পড়ছে ৪০ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ১৫ টাকা বা ৭% বেশি টাকা লাগছে। এই ৭% হল মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ। এর মানে টাকার মানও ৭% কমে গিয়েছে।
তবে হাতে গোনা কয়েকটি পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়লেই সেটাকে মুদ্রাস্ফীতি বলা যাবে না। যদি সামগ্রিকভাবে পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়ে তাহলেই বুঝতে হবে মুদ্রাস্ফীতির কারণে এমন হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে,মুদ্রাস্ফীতি যদি ওই দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম থাকে তাহলে সেটার তেমন নেতিবাচক প্রভাব থাকে না

মুদ্রাস্ফীতি হলে কি হয়?

একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামের পরিবর্তন হিসাব করে মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ বের করা হয়। সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি থাকলে সেটাকে সহনীয় বলা যায়। তবে ৭ থেকে ১০ শতাংশ হলে মধ্য ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষের কষ্ট বেড়ে যায়। এবং এর চাইতে বেশি মুদ্রাস্ফীতি পুরো দেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তবে এটা নির্ভর করছে সেই দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর।

মুদ্রাস্ফীতি কিভাবে হয়?

মুদ্রাস্ফীতি কিভাবে হয়?

আপনি কি জানেন মুদ্রাস্ফীতি কিভাবে হয়?। যদি সহজ ভাষায় বলি। একটি দেশের বাজারে পণ্যের মজুদ এবং মুদ্রার পরিমাণের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হয়। যদি পণ্যের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ অনেক বেড়ে যায়। অর্থাৎ, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা ছাপায় তখনই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। এর ফলে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে আপনাকে আগের চাইতে বেশি মুদ্রা খরচ করতে হবে।

মুদ্রাস্ফীতি কয় প্রকার ও কি কি?


প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও যুদ্ধের কারণে পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয় ফলে সংকট দেখা দেয়। যার প্রভাব দামে গিয়ে পড়ে। এছাড়া যুদ্ধে লিপ্ত রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধে বিনিয়োগের জন্য প্রচুর অর্থ ছাপিয়ে থাকে। সেটাও মুদ্রার সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়।

মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয় কেন?

বাজারে যদি কোন পণ্য ও সেবার চাহিদা বেড়ে যায় এবং সে অনুযায়ী সরবরাহ না থাকে। তখন দাম বেড়ে যায়। আবার কোনও জিনিস তৈরি করতে যে সামগ্রী লাগে তার দাম বাড়লেও মূল পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আবার যদি একটি দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে পণ্য ও সেবা সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকলেও দামে এর প্রভাব পড়ে। দেশের অর্থনীতি প্রবলভাবে নির্ভরশীল জ্বালানি তেলের ওপর। কারণ যেকোনো পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছায় পেট্রোল বা ডিজেলে চালিত যানবাহনের মাধ্যমে। ফলে এই তেলের দামের প্রভাব সব পণ্যের ওপরেই কমবেশি পড়ে।

মুদ্রা অর্থনীতি কি?

সরকার যদি বিভিন্ন কারণে বেশি করে মুদ্রা ছাপাতে শুরু করে। তাহলে এতে বাজারে মুদ্রার আধিক্য দেখা দিবে, কিন্তু জিনিসপত্রের যোগান না বাড়ায় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতির কারণ গুলো কি কি?

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন যে,বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংক খাতের ঋণের সুদ হারের নির্ধারিত সীমা তুলে দেয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘নীতি সুদ হার’ বাড়ানো। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও মূল্যস্ফীতির জ্বরে কাঁপছে। আর মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে যে,জুলাই মাস শেষে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গ্রামে এই হার শহরের তুলনায় বেশি।

বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে দেশে ডলারের তীব্র সংকট চলছে। এক ডলার কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে একশ টাকার অধিক। অর্থাৎ স্থানীয় টাকার মান কমছে আর ডলার দাম গতিতে ছুটছে। ডলার নিয়ে এমন সংকট আগে কখনই দেখা যায়নি দেশে। ফলে ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হারে অস্থিরতা চলছে।

অর্থের যোগান বৃদ্ধি পায় কিভাবে

সম্পদের সাথে যদি সামঞ্জস্য না রেখে বেশি অর্থের যোগান দেওয়া হয়। তাহলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে।

সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি।

সরকার যদি অত্যধিক পরিমাণ মুদ্রা ব্যয়।করে তাহলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিবে।


উল্লম্ফন মুদ্রাস্ফীতি কী?

দামস্তর যখন ধীর গতিতে বেড়ে চলে, তাকে মৃদু মুদ্রাস্ফীতি বলে। কাজ করে । চলে যায়, তাকে ধাবমান মুদ্রাস্ফীতি বলে । দামস্তর বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে উল্লম্ফন মুদ্রাস্ফীতি বলে। যদি বেশি উৎপাদন হ্রাস পেতে থাকে তাহলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিবে।

মজুদ ও চোরাচালান।

মজুদ ও চোরাচালানের কারণে যদি কোন দেশে অর্থের যোগান বৃদ্ধি পায় তাহলে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *