মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি কি এবং অর্থের মূল্য ও দামের স্তরের মধ্যে সম্পর্ক কীমূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি কি এবং অর্থের মূল্য ও দামের স্তরের মধ্যে সম্পর্ক কী
মূল্যস্ফীতি

মূল্যস্ফীতি

যখন কোন দেশের সরকার কর্তৃক প্রচলিত অর্থের যোগান বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্তর বৃদ্ধি পায়। তখন তাকে অর্থ বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়। সাধারণত সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক অতিরিক্ত কাগজী নোট ছাপানোর ফলে এ ধরনের মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। যখন কোন দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বিশেষ করে বানিজ্যিক ব্যাংকসমূহ ঋণ প্রদানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ বাজারে ছাড়ে তখন দামস্তর বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধিকে ঋণজনিত মুদ্রাস্ফীতি’ বলা হয় ।

মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি কি

আপনি কি জানেন মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি কি কি। মূল্যস্ফীতি হচ্ছে পণ্য বা সেবার মূল্য বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি হল স্বতন্ত্র পণ্য ও পরিষেবার দাম বৃদ্ধি। এটি বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে, যেমন ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ। সরকারী নীতি বা বর্ধিত চাহিদা। আর মুদ্রাস্ফিতি হল যে অর্থনীতিতে মুদ্রার পরিমাণ বেড়ে যাওয়া কে মুদ্রাস্ফীতি বলে । আবার মুদ্রাস্ফীতি বলতে বোঝায় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়াকে। যা সাধারণত ঘটে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে।

মুদ্রা সরবরাহ কমে গেলে সুদের হার বৃদ্ধি পায় কেন

মুদ্রা সরবারহ কমানোর জন্য কেন্দ্রিয় ব্যাংক কিছু নিতি ঘুষনা করেছে,যেমন ঋণে সুদের হারের সীমা প্রত্যাহার। ডলারের একক দাম নির্ধারণ।

অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবারহ হ্রাস করতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি প্রয়োগ করা হয়। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত মূল্যস্ফীতি হ্রাস করতে এই মুদ্রানীতি প্রয়োগ করে। এটি স্বল্প-মেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মন্থর করে এবং সেই সাথে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ কমে যায় এবং সুদ হার বেড়ে যায়, এতে ব্যবসায়ীদের বেশি সুদে ঋণ নিতে হয়। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পরে।

মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাস্ফীতি পার্থক্য

মুদ্রাস্ফীতি হলো অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যাওয়া। আর মূল্যস্ফীতি হচ্ছে পণ্য বা সেবার মূল্য বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি হল স্বতন্ত্র পণ্য ও পরিষেবার দাম বৃদ্ধি। এটি বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে, যেমন ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচ। সরকারী নীতি বা বর্ধিত চাহিদা । মুদ্রাস্ফীতি হল একটি অর্থনীতিতে দামের সাধারণ বৃদ্ধি। এটি পরিমাপ করা হয় পণ্য ও পরিষেবার ঝুড়ির দামের শতকরা পরিবর্তন হিসাবে।

যেমন গত বছর ১ কেজি আটা কিনতে আপনার খরচ হতো ২৫ টাকা। কিন্তু চলতি বছর সেই একই আটার পরিমাণ কিনতে আপনার খরচ পড়ছে ৪০ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ১৫ টাকা বা ৭% বেশি টাকা লাগছে। এই ৭% হল মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ। এর মানে টাকার মানও ৭% কমে গিয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায় কি

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায় কি?

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন যে,বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, ব্যাংক খাতের ঋণের সুদ হারের নির্ধারিত সীমা তুলে দেয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘নীতি সুদ হার’ বাড়ানো। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও মূল্যস্ফীতির জ্বরে কাঁপছে। আর মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে যে,জুলাই মাস শেষে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গ্রামে এই হার শহরের তুলনায় বেশি।

মূল্যস্ফীতি কেন হয়

বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে দেশে ডলারের তীব্র সংকট চলছে। এক ডলার কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে একশ টাকার অধিক। অর্থাৎ স্থানীয় টাকার মান কমছে আর ডলার দাম গতিতে ছুটছে। ডলার নিয়ে এমন সংকট আগে কখনই দেখা যায়নি দেশে। ফলে ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় হারে অস্থিরতা চলছে।


মুদ্রাস্ফীতি কি ভালো হচ্ছে?

না মুদ্রাস্ফিত ভালো হচ্ছে না । কারণ হল রিজার্ভ। একটি দেশের কাছে বৈদেশিক লেনদেনের জন্য যে পরিমাণ অর্থ মজুদ থাকে তাকে রিজার্ভ বলা হয়। আমাদের দেশে রিজার্ভ হিসেবে ডলার মজুদ করে রাখা হয়। কারণ বৈদেশিক লেনদেনের জন্য ডলার এর প্রয়োজন হয়। ডলারের দাম যখন বেড়ে যায় তখন মুদ্রাস্ফীতিও বৃদ্ধি পায়। গত বছর ডলার প্রতি দাম ছিলো ৮৬ টাকা কিন্তু এই বছর ডলারের দাম ১০৭ টাকা। অর্থাৎ আমাদের দেশের চাহিদা পূরণের জন্য আগে যত টাকার পণ্য বিদেশ থেকে আনতে হতো সেই একই পণ্য এখন অনেক বেশি টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে রিজার্ভ কমে যাচ্ছে।ফলে ঘটছে দেশের অভ্যন্তরে এই মুদ্রাস্ফীতি।

ক্ষমতাসীনদের মাধ্যমে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে দেওয়া। অল্পকিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা লুটের ফলে ঋণখেলাপির পরিমাণ বৃদ্ধি অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও মুদ্রাস্ফীতির জন্য অনেকাংশে দায়ী। তবে সরকার যাই বলুক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি ও কষ্টের সম্মুখীন হয় স্বল্প আয়ের মানুষ। সুতরাং এদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বাজারের ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ী যাতে তার ইচ্ছামতো দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে সে জন্য দেশের জনগণকেও সচেষ্ট থাকতে হবে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে এবং নিম্ম আয়ের মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ।

মুদ্রাস্ফীতি ও এর প্রকারভেদ

মজুরি বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি :

  • অনেক সময় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ফলে দামস্তরের বৃদ্ধি ঘটে। এ ধরনের মূল্য বৃদ্ধিকে মজুরি বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়।

মুনাফা বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি :

  • অনেক সময় উৎপাদনকারীদের মুনাফা বৃদ্ধির ফলে দেশে দামস্তর বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের মূল্য বৃদ্ধিকে মুনাফা বৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতি’ বলা হয় ।

আয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি :

  • অনেক সময় উৎপাদনের উপাদানগুলোর আয় বৃদ্ধির ফলে দেশে দামস্তর বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের মূল্য বৃদ্ধিকে ‘আয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়।

ঘাটতি ব্যয়জনিত মুদ্রাস্ফীতি :

  • যখন কোন দেশে যুদ্ধ বা অন্য কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয় অথবা উন্নয়ন পরিকল্পনার অর্থসংস্থানের জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয় তখন সরকার ঘাটতি ব্যয়নীতি অনুসরণ করে। এর কারণে দেশে অর্থের যোগান ও দামস্তর বৃদ্ধি পায়। এ ধরনেরও মূল্য বৃদ্ধিকে ঘাটতি ব্যয়জনিত কে মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়।

ব্যয় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাক্ষীতি :

  • শ্রমিকের কাঁচামাল, মুজুরি যন্ত্রপাতি এবং উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধির ফলে দামস্তরের যে ক্রমাগত বৃদ্ধি ঘটে তাকে ব্যায় বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়।

মূল্য সংকোচন কি?

ডিফ্লেশন বা মূল্য-সংকোচন কী? যখন চাহিদার কমতির কারণে পণ্য বা সেবার দাম আগের চেয়ে পড়ে যায় তখন সেটাকে বলা হয় ডিফ্লেশন বা মূল্য-সংকোচন। মূল্যস্ফীতি হলে কোনও কিছু কিনতে বেশি দাম দেয়া লাগে, চাহিদা অনুযায়ী।

বর্তমান বিশ্বের সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির দেশ কোনটি?

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে অতি মূল্যস্ফীতি জার্মানির অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। আর এই সময়ে দীর্ঘ বছর ধরে অতি মূল্যস্ফীতির টানা উদাহরণ হচ্ছে জিম্বাবুয়ে। আক্ষরিক অর্থেই দেশটির নাগরিকদের বস্তা ভরে টাকা নিয়ে বাজারে গিয়ে ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে আসতে হয়েছে। তবে এখন লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতির দেশ হচ্ছে ভেনেজুয়েলা।

অর্থের মূল্য ও দামের স্তরের মধ্যে সম্পর্ক কী?

অর্থের মূল্য ও দামের স্তরের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যেমন,অর্থের মূল্য বলা হয় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করা যায় তাকে অর্থের মূল্য বলে। অর্থাৎ আপনি যদি ২০ টাকা দিয়ে একটি খাতা ক্র‍য় করেন। আর যদি খাতার দাম বেড়ে ৪০ টাকা হয়ে যায়। তাহলে আপনি ৪০ টাকা দিয়া দুইটির বদলে একটি খাতা ক্রয় করছেন। তু এখানে আগের টাকার যে ভেলু ছিল সেটা কমে যায়।

2 thoughts on “মুদ্রাস্ফীতি কি ভালো হচ্ছে?এবং মূল্যস্ফীতি কেন হয়”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *